চতুর্থ ফাইফারে সাকিবের পাশে শাহীন আফ্রিদি

খেলা বার্তা

বড্ড বিবর্ণ ফর্মে ছিলেন। কাউন্টি ক্রিকেটে যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন পাকিস্তানের শাহীন শাহ আফ্রিদি। অথচ সেই আফ্রিদি কিনা মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ৫ ম্যাচের তিনটিতে শিকার করলেন পাঁচ উইকেট করে। আর তাতেই জায়গা করে নিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের পাশে।

টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ফাইফার (পাঁচ উইকেট শিকার) সংখ্যায় সাকিবকে স্পর্শ করলেন ২০ বছর বয়সী এই পাকিস্তানি পেসার। সাকিবের সমান চারটি ফাইফারের মালিক হলেন আফ্রিদি। তাদের সামনে এখন কেবল লাসিথ মালিঙ্গা। এই লঙ্কান পেসার পাঁচটি ফাইফারের মালিক।

আফ্রিদির শেষ তিন ফাইফারের শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে নিজের শেষ ম্যাচে। হ্যাম্পশায়ারের জার্সিতে মিডলসেক্সের বিপক্ষে গুনে গুনে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন আফ্রিদি। আর মধ্যে ডাবল হ্যাটট্রিকের (টানা চার বলে চার উইকেট) ঘটনাও রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় ডাবল হ্যাটট্রিক করার পথে চার ব্যাটসম্যানকেই বোল্ড করেছিলেন আফ্রিদি। সে ম্যাচে নেন ক্যারিয়ার সেরা ১৯ রানে ৬ উইকেট।

কাউন্টিতে থেকে ফিরে ঘরের মাঠে ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে খাইবার পাখতুনের হয়ে মাঠে নামেন এই বাঁহাতি পেসার। প্রথম ম্যাচে নর্দার্ন পাকিস্তানের বিপক্ষে নেন ১ উইকেট। এরপরের ম্যাচেই বেলুচিস্তানের বিপক্ষে শিকার করেন পাঁচ উইকেট, ৪-০-২০-৫!

এরপরের ম্যাচে পান কেবল ১ উইকেট। তবে টুর্নামেন্টে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে আবার পাঁচ উইকেট শিকার আফ্রিদির। সোমবার সিন্ধের বিপক্ষে দলকে জেতানো পারফরম্যান্স করেন আফ্রিদি। মাত্র ২১ রান খরচায় ফের নিয়েছেন ফাইফার। সবমিলিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে পাঁচ ম্যাচে তিন ফাইফারের মালিক হলেন আফ্রিদি। এর আগে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে আরেকটি ফাইফার মিলিয়ে ২০ বছর বয়সে মাত্র ৫৬ ম্যাচে চার ফাইফারের মালিক হলেন এই বাঁহাতি পেসার।

কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ফাইফারের রেকর্ডে দুই নম্বরে উঠে এসেছেন আফ্রিদি। সাকিব এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড ওয়াইজের সমান চার উইকেট পেলেও ম্যাচসংখ্যা কম হওয়াতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে আফ্রিদি।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ফাইফার

১/ লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা) – ২৮৯ ম্যাচে ৫ বার

২/ শাহীন শাহ আফ্রিদি (পাকিস্তান) – ৫৬ ম্যাচে ৪ বার

৩/ ডেভিড ওয়াইজ (দক্ষিণ আফ্রিকা) – ২০৩ ম্যাচে ৪ বার

৪/ সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ) – ৩০২ ম্যাচে ৪ বার

এছাড়া ৩ বার ফাইফার নিয়েছেন অঙ্কিত রাজপুত (ভারত), অ্যান্ড্রু এলিস (নিউজিল্যান্ড), টম স্মিথ (ইংল্যান্ড), উমর গুল (পাকিস্তান), মোহাম্মদ সামি (পাকিস্তান) ও জেমস ফকনার (অস্ট্রেলিয়া)।