স্লিপ সিস্টেমের কারণে সরকারি ওষুধ পাচ্ছেন না রোগীরা

বিবিধ

স্লিপ সিস্টেমে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করায় মাগুরা সদর হাসপাতালে সরকারি ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। পাশাপাশি সদর হাসপাতালে রয়েছে দালালের আধিক্য। রয়েছে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট, পানি নিষ্কাশনের নানা সমস্যা।বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মাগুরা সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উঠে এসেছে এসব অভিযোগ।ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরের সভাপতিত্বে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক আলী আকবর, মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অলোক কুমার সাহা, সিভিল সার্জন প্রদীপ কুমার সাহা, পৌর মেয়র খুরশিদ হায়দার টুটুল, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু নাসির বাবলু, ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার স্বপন কুমার কুন্ডু, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

সভায় অভিযোগ ওঠে, মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে সরকারি ওষুধের মজুদ থাকা সত্ত্বেও ওষুধ বিতরণের দায়িত্বরতরা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ছোট ছোট মোটা কাগজের বিশেষ স্লিপে ওষুধ লিখে বাইরে দোকান থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করেন। এছাড়া হাসপাতালে দালালদের ভয়াবহ উপদ্রব রয়েছে। রয়েছে ড্রেনেজ, পয়ঃনিস্কাশন ও জনবলের সমস্যা।সভায় উপস্থিত মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালটিকে দালালমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়া অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একটি আন্তর্জাতিক মানের অপারেশন থিয়েটার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি মা ও শিশুদের জন্য সব ধরণের সুবিধাসম্পন্ন পৃথক ওয়ার্ড স্থাপনের কথা বলেন।

শিখর বলেন, এই হাসপাতালটি এখন মাগুরাসহ আশপাশের জেলার মানুষের আস্থার প্রতীক। এর প্রতি সবার যত্নশীল হতে হবে। চিকিৎসা সেবাকে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অত্যন্ত মানবিকতার জায়গা থেকে বিবেচনা করেতে হবে।সিভিল সার্জন প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, মাগুরায় গত মাসে ৬০০ প্রসূতি সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছে। এই সংখ্যা উদ্বেগজনক। প্রসূতিদের নরমাল ডেলিভারীর জন্য হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের আরো আন্তরিক হতে হবে।জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিরঞ্জন বন্ধু দাম বলেন, প্রসূতি মায়েদের সন্তান জন্মের ১ মাসের মধ্যে পুনরায় গর্ভধারনের ঝুঁকি রয়েছে। গত মাসে ৬ শতাধিক প্রসূতি মায়ের মধ্যে মাত্র ৩ জন জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এই হার বাড়ানোর জন্য হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের এক্ষেত্রে আরো সচেষ্ট হতে হবে।