কুমিল্লায় বিচারকের সামনে খুনের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার

কুমিল্লা বার্তা

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লায় বিচারকের সামনে আসামীর ছুরিকাঘাতে অপর আসামীর মৃত্যুর ঘটনার পর আদালতপাড়ায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এতেও আইনজীবি ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লার আদালতে গিয়ে দেখা যায়, আদালতে প্রবেশের প্রধান ফটকে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আদালত প্রবেশের জন্য আসা সবার শরীর, ব্যাগ ও যানবাহনে পুলিশকে তল্লাশি করতে দেখা গেছে। এদিকে হত্যার ঘটনায় রক্তের দাগ এবং আলামত সংগ্রহে সাময়িকভাবে ওই আদালত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।সোমবার বিচার চলাকালীন সময়ে এজলাস অতিক্রম করে খাস কামরায় ঢুকে বিচারকের সামনেই একই হত্যা মামলার আসামী অপর আসামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় আদালতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আজ মঙ্গলবার আদালতে বিচার কার্যক্রম অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিক ছিল।

কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম জানান, কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে তিন তলায় অবস্থিত। ওই আদালতে আসামি হত্যার ঘটনায় রক্তের দাগ এবং কিছু আলামত রয়েছে। যে কারণে ওই আদালতটি একই ভবনের নিচ তলায় সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়ে যথারীতি বিচার কাজ চলছে। এছাড়া মামলা হওয়ায় পুলিশের তদন্ত কাজও চলছে এবং আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে আইনজীবী ও বিচার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক কেটে গেছে বলেও দাবী করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আসেন জামাল উদ্দিন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে খুনের বিচার হয় সেখানে যদি খুন খারবি হয়। তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়। অনেক আতঙ্ক নিয়ে বাধ্য হয়ে আজকে হাজিরা দিতে এসেছি।এসময় আরেক বিচারপ্রার্থী ফজলুল হক যোগ করে বলেন, আদালতে অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী থাকার পাশাপাশি এজলাসে বা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা শুধু নিজেদের পকেট ভরার ধান্ধায় থাকেন। আসামীকে চেক করা বা কে আসলো কে গেলো এ বিষয়ে পুলিশ সদস্য সহ সকলেই উদাসীন বলেও দাবী করেন তিনি।

এমন জঘন্য হত্যার ঘটনায় শঙ্কিত বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আইনজীবি বলেন, এই হত্যার ঘটনাটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। তবুও আদালতের মতো এতোটা স্পর্শকাতর একটি স্থানে এমন গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় আমাদের ভিতরেও আতঙ্ক কাজ করে।নিহত ফারুক কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কান্দি গ্রামের অহিদ উল্লাহর ছেলে ও ঘাতক হাসান কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা এলাকার ভোজপাড়া গ্রামের শহিদ উল্লাহর ছেলে। তারা সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই ছিলেন

মামলা ও ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তি: এ ঘটনায় বাঙ্গরা থানার এএসআই ফিরোজ বাদী হয়ে হাসানকে একমাত্র আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সময় আদালতে এএসআই ফিরোজ উপস্থিত থাকা ও আসামি হাসানকে আটক করায় তিনি এই মামলায় বাদী হয়েছেন বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, মামলাটি পরবর্তীতে তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ডিবির পরিদর্শক প্রদীপ মন্ডলকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে আসামি ফারুককে ছুরি দিয়ে উপর্যপুরি কুপিয়ে হত্যার করার ঘটনায় আসামি হাসান ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা সদর আদালতের বিচারক মো. জালাল উদ্দীনের নিকট এই স্বীকারোক্তি দেয়। হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়ায় বিচারক তাকে রিমান্ড না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সোমবার কুমিল্লা আদালতে বিচার চলাকালীন সময়ে এজলাস অতিক্রম করে খাস কামরায় ঢুকে বিচারকের সামনে এক আসামি অন্য আসামিকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ২০১৩ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কান্দি গ্রামে হাজী আবদুল করিম হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিদের হাজিরার দিন ধার্য ছিলো। নিহত ফারুক ওই মামলার ৪নং ও হাসান ৭নং আসামি ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে আসামিরা আদালতের এজলাসে প্রবেশের সময় আসামি ফারুককে ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে আসামি হাসান। এ সময় জীবন বাঁচাতে ফারুক বিচারকের খাস কামরায় প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে হাসান ফারুককে উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত ফারুককে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।