মাফিয়া স্টাইলে ইউক্রেনকে হুমকি দেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে চাপ দিয়েছেন।

বুধবার হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ফোনকলের প্রতিলিপিতে এমনটাই প্রমাণ মিলেছে। এএফপি জানায়, একজন রাষ্ট্রনেতাকে আরেক রাষ্ট্রনেতার এমন হুমকির সুরে কথা বলাকে ‘মাফিয়া স্টাইল’ অ্যাখ্যা দিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।গত ২৫ জুলাইয়ের এ ফোনকলে ট্রাম্প অভিশংসিত হওয়ার মতো অপরাধ করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।তাকে অভিশংসনের লক্ষ্যে ডেমোক্রেটিক দলের এ তদন্তকে ‘প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনকলের ওই সারসংক্ষেপে দেখা গেছে, ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি গিউলিয়ানি এবং মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত করতে বলেছিলেন জেলেনস্কিকে।ট্রাম্প তাকে বলেন, ‘বাইডেনের ছেলে নিয়ে অনেক কথা বলার আছে। বাইডেন তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। অনেকে সে বিষয়ে জানতে চায়।

তো, আপনি অ্যাটর্নি জেনারেলের (মার্কিন) সঙ্গে মিলে যা-ই করতে পারেন, তা অসাধারণ হবে। আপনি সেটা খতিয়ে দেখুন।’ জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখছি এবং এ বিষয়ে তদন্ত করব।’মেমোটি প্রকাশের পর ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘আসল ব্যাপার হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ভঙ্গ করেছেন।আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ন করে তার রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিদেশি সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।

এটা হতে দেয়া যায় না। তাকে জবাবদিহি করতে হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।’ ডেমোক্রেটিক নেতা অ্যাডাম স্কিফ বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে বন্দুক তাক করে তদনে্ত চাপ দেয়ার শামিল।কোনো অংশে ‘মাফিয়া স্টাইলের’ কম নয়। তিনি অভিযোগ করেন, একজন গুন্ডা যেভাবে কথা বলে এটা ঠিক তেমনই।’আপনি আমার জন্য কি করেছেন? আমরা আপনার জন্য বহু করেছি কিন্তু এখানে কোনো পারস্পরিক সুবিধা পাওয়ার নীতি মানা হচ্ছে না। আপনি আমার অনুকূলে কিছুই করছেন না? অ্যাডাম স্কিফ প্রশ্ন তোলেন, অনুকূলে কাজ করার বিষয়টি কি?

অবশ্যই, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে চাপে ফেলতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা, তার মানে বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা।ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাকে কোনো চাপ দেননি। আমাদের মধ্যে বহু বিষয়ে কথা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমি ভেবেছিলাম শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অংশই প্রকাশ করা হবে। আমি মনে করি স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে এ ধরনের কথোপকথন প্রকাশ করা উচিত নয়।