জাবিতে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

রাজনীতি বার্তা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অনুষদ ও প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে মুরাদ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।সমাবেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, এত বড় ঘটনা ঘটার পরেও একটা পক্ষ কঠিন দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করছে যে, আসলে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি-না। তারা কোনো ভাবেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষের হতে পারে না। আন্দোলনে কতজন অংশগ্রহণ করেছে সেটা বড় না। বড় কথা হলো, তারা নৈতিক কথা বলছেন কি-না। উপাচার্যকে বলতে চাই, আপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা তদন্ত করুন। যারা জাহাঙ্গীরনগরকে বাঁচানোর জন্য সংগ্রাম করছে, আপনি তাদের পক্ষ অবলম্বন করুন। যারা মিডিয়ার সামনে এসে প্রকাশ করেছে যে, তারা টাকা পেয়েছে, তার প্রত্যেকে এই ঘটনার সাক্ষী। তদন্ত কমিটি চাওয়া হয়েছে আপনাকে অপমানিত করার জন্য নয়। বরং, আপনার স্বচ্ছতার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য আরেকটি পক্ষ দাঁড়িয়েছে, যারা আপনার পক্ষের কথা বলছে। দৃশ্যত, তারা আপনার বিরোধী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আর নৈতিক অধিকার নেই এই সম্মানিত পদে থাকার। আপনি দুর্নীতির সঙ্গে স্পষ্টভাবে যুক্ত হয়েছেন। এখন নতুন করে দল ভারী করে আপনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন, আপনি দুর্নীতিবাজ নন। উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। শিক্ষকদের সন্তানদের চাকরি আর টাকার লোভ দেখিয়ে শিক্ষকদের মহাসমাবেশে যুক্ত করেছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এসব কাজ করে ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হারেস ভূঁইয়া বলেন, প্রশাসন আমাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধের আন্দোলনকে আদর্শিক ও নৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে তার সাফাই গাওয়ার জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে-উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর নামের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এটা দিয়ে তিনি নিজেকে শেষ রক্ষা করতে পারবেন না। তার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অনেক শিক্ষক যৌন হয়রানি ও গবেষণা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তারা কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বেন?