ক্রিকেটে আইসিসির নতুন নিয়ম

খেলা বার্তা

২০১১ সালের ২১ আগস্ট। বুলাওয়েতে চলছিল বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ একদিনের ম্যাচ। বাংলাদেশের ইনিংসের পঞ্চাশতম ওভারের শেষ বলটা করতে আসলেন জিম্বাবুইয়ান পেসার কিগানম্যাথ, ব্যাটিংয়ে নাসির হোসেন। কিগানের করা ফুলটস বলটা সপাটে হাঁকালেন নাসির, সেটা সোজা যেয়ে আঘাত হানলো বোলার কিগানের মুখে, সাথে সাথেই তিনি লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেলো আঘাতের ফলে বেশ কয়েকটি দাঁত হারিয়েছেন বোলার।না, ব্যাট বলের খেলা ক্রিকেটে বোলারের আঘাত পাওয়ার ঘটনা এটাই শুরু বা শেষ নয়। ভুরিভুরি রেকর্ড আছে এমন, যার সবশেষ সংযোজন দিন দুয়েক আগে ভারতীয় পেসার অশোক ডিন্ডার মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়ার ঘটনা। সেকারণে এর আগে একবার বোলারদের হেলমেট পরিধান করার জোর দাবি উঠে থেমে গেলেও এই ঘটনার পর আবার সামনে উঠে এসেছে তা।

ক্রিকেটে নিরাপত্তার জন্য ব্যাটসম্যানেরা অনেক কিছুই ব্যবহার করেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাথা বাঁচানোর জন্য হেলমেট। ব্যাটসম্যান হেলমেট পরেন ধেয়ে আসা বাউন্সার থেকে রক্ষা পেতে। একই কারণে হেলমেট ব্যবহার করেন ব্যাটসম্যানের পিছনেই দাঁড়ানো উইকেটরক্ষকও। ইদানিংতো কোনো কোনো ফিল্ড আম্পায়ারকেও দেখা যায় সুরক্ষার জন্য হেলমেট নিয়ে মাঠে নামতে।আম্পায়ার পশ্চিম পাঠক ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতি ম্যাচে আম্পায়ারিং করতে নামেন হেলমেট পরেআক্রমনাত্মক ক্রিকেট টি-টোয়েন্টির এই যুগে ব্যাটসম্যানদের সপাটে চালানো স্ট্রেট ড্রাইভ থেকে বাঁচতে না পেরে উপায়ই বা কি! এই যেমন দিন তিনেক আগের ঘটনা। কপাল জোরে রক্ষা পেয়ে যান ভারতীয় রাজ্য দল বাংলার পেসার অশোক ডিন্ডা। প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার সময় ব্যাটসম্যান বীরেন্দ্র বিবেক সিংয়ের ফিরতি শট তালুবন্দি করতে গিয়ে মারাত্মক চোট পান ডিন্ডা। তাঁর হাত ফসকে বল এসে সজোরে আঘাত করে মাথায়। মাঠেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। আর এই ঘটনা পর থেকে আবার জোরালো হয়েছে বোলারদের হেলমেট পরিধানের দাবি।ভারতীয় জাতীয় দলে খেলা ডিন্ডার সতীর্থ দুই ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও জয়দেব উনাদকাট এই বিষয়ে এবার বেশ সরব হয়েছে। যেখানে টুইটারে করা এক টুইট বার্তার মাধ্যমে উনাদকাট লেখেন,‘এবার সময় এসেছে বোলারদের জন্য ফেস মাস্ক (হেলমেট) ব্যবহার করার। এটা দেখে ভয় লাগছে যেভাবে প্রতিনিয়ত এরকম ঘটনা ম্যাচের মধ্যে হচ্ছে। আশা করি ডিন্ডা তুমি ভাল আছো। এ ব্যাপারে তুমি কী বলবে অ্যাশ (অশ্বিন) ভাই?’

উনাদকাটের টুইট দেখে অশ্বিন লেখেন,

‘আমি ২০১১ থেকেই বলে আসছি এই কথা। এ ধরণের ঘটনা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসার আগে হতো না। অবশ্যই কিছু একটা বদল ঘটেছে। কিন্তু সেটা কী বুঝতে পারছি না।’প্রসঙ্গত, বোলারদের জন্য বিশেষ একধরণের হেলমেট বানানোর চিন্তাভাবনা বেশ আগেই শুরু করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোকাবুরা স্পোর্টস। এতে অবশ্য তারা সমর্থন পেয়েছেন এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কিমিটিরও। মাস ছয়েক আগে শেষ হওয়া এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কিমিটির এক বৈঠকে বিষদ আলোচনা হয়েছে এই বিষয়ে।বোলারের হেলমেট মাথায় দিয়ে বল করবার দৃশ্যবোলারদের হেলমেট পরে মাঠে নামার রীতিটা অবশ্য এরই মধ্যে চালু হয়ে গেছে। আর সেটা শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেই। নিউজিল্যান্ড ঘরোয়া ক্রিকেটের দল ওটাগোর বোলার বার্নস হ্যামিল্টন এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বোলিং করেছেন হেলমেট মাথায় দিয়ে। বার্নসের শঙ্কা, তার বোলিং অ্যাকশনের কারণেই সমূহ সম্ভাবনা আছে মাথায় আঘাত পাওয়ার। ফলো থ্রুতে তাঁর মাথাটা একটু বেশিই নিচের দিকে ঝুঁকে যায়। ঝুঁকি এড়াতেই তাই এই পথে হেটেছেন বার্নস।দলের কোচ রব ওয়াল্টারের সাথে মিলে বোলারদের জন্য বিশেষ একধরণের হেলমেটের নকশা করেছেন বার্নস। যা বেসবল আম্পায়ার বা সাইকেলিস্টদের সাথে অনেকটা মিলে যায়।