কাটা মাথা গুজব ও প্রিয়া সাহার মিথ্যাচারের মধ্যে যোগসূত্র আছে?

জেলা বার্তা

পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগার গুজব আর প্রিয়া সাহার মিথ্যাচারের মধ্যে কি কোনও যোগসূত্র আছে? এবার মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির হাতে চরম একটি ইস্যু তুলে দিয়েছেন প্রিয়া সাহা। এই কারণেই কি হঠাৎ করে দেশে ভার্চুয়াল দেশপ্রেমিকের সংখ্যা বেড়েছে গেছে? প্রিয়া সাহার ব্যক্তিগত অপরাধের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুরো সম্প্রদায়ের দিকে আঙ্গুল তুলছেন কারা? ওদের উদ্দেশ্যই বা কি? অনন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাংলাদেশে সম্প্রীতি বিনষ্ট হলে কাদের ফায়দা? কারা, কি স্বার্থে দেশটাকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়? এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় এসেছে।

আমরা আগেও দেখেছি, এ দেশে সুযোগ পেলেই ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। একে একে খোলস ছেড়ে বেরোয়। এবারও প্রিয়া সাহা সেই প্রেক্ষাপট তৈরী করে দিয়েছেন। আর তা লুফে নিয়েছে সাম্প্রদায়িক কীটরা।রামু কিংবা নাসির নগরের ঘটনা থেকে আমরা এখনও শিক্ষা নিতে পারিনি। আমরা এখনও ‘চিল কান নিয়েছে’ শুনে চিলের পেছনে দৌড়াই। নিজের কানে হাত দিয়ে দেখিনা। একজন প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা একান্তই তার ব্যক্তিগত মতামত। তিনি গোটা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এর পেছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোন ষড়যন্ত্র কাজ করছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা জরুরি।

পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা প্রয়োজন-এমন গুজব ছড়াতে কম ভূমিকা রাখেননি আজকের হঠাৎ বেড়ে উঠা ভাচুর্য়াল দেশপ্রেমিকদের বড় একটি অংশ। প্রকাশ্যে, গোপনে ওই গুজব ছড়িয়ে দিতে তারা নানাভাবে তৎপর ছিলেন। সেই একই চক্রই এখন দেশপ্রেমিকের লেবাসে তৎপর। এই অশুভ অপশক্তিকে যেকোন মূল্যে প্রতিহত করা দরকার।

লেখক: সংবাদকর্মী (লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া)