মোদিকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য

আন্তর্জাতিক

কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অস্বীকার করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মোদি ট্রাম্পকে কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার কোনো আহ্বান জানাননি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, কাশ্মীর নিয়ে মোদি তাঁকে মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছিলেন।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। গত মাসে জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে পার্শ্ববৈঠকে মিলিত হন ট্রাম্প ও মোদি। ওই সম্মেলনে ইমরান খান থাকলেও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়নি। সেই পার্শ্ববৈঠকে মোদি কাশ্মীর ইস্যুতে তাঁর সহায়তা চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

আজ মঙ্গলবার এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ট্রাম্পের দাবিকে অস্বীকার করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, ট্রাম্পের কাছে মোদি এমন কোনো অনুরোধ জানাননি।ইমরান খানের সঙ্গে গতকাল যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দুই সপ্তাহ আগে আমার কথা হয় (জি-২০ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে) এবং আমরা এ বিষয়ে (কাশ্মীর) কথা বলেছি। উনি (মোদি) আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনি কি মধ্যস্থতাকারী বা সালিস নিষ্পত্তিকারী হতে চান?” আমি বলেছিলাম, কোথায়? তিনি (মোদি) বললেন, “কাশ্মীর।” কারণ এটা বছরের পর বছর ধরে চলছে…আমি মনে করি তাঁরা সংকটের সমাধান দেখতে চান। আপনি (ইমরান খান) এটার সমাধান চান। আমি যদি সাহায্য করতে পারি, আমি মধ্যস্থতাকারী হতে পারলে খুশি হব।’এর জবাবে ইমরান খান বলেন, ‘শত কোটি মানুষের প্রার্থনা আপনার সঙ্গে থাকবে যদি আপনি মধ্যস্থতা করতে পারেন এবং সংকটের সমাধান করতে পারেন।’

এরপরই একের পর এক টুইটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের দাবিকে অস্বীকার করে। এ ধরনের কোনো অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী মোদি করেননি বলে জানায় মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার টুইটে বলেন, সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা গেল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত–পাকিস্তান অনুরোধ করলে তিনি মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে এমন কোনো অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী মোদি করেননি। এ ব্যাপারে ভারত অটল অবস্থানে রয়েছে যে এসব ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো সম্পৃক্ততা সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ সমাপ্তির মধ্য দিয়ে হতে হবে। শিমলা চুক্তি এবং লাহোর ঘোষণার মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো সমাধানের উপাদান রয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইস্যুটি ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয়। এরপরও ওয়াশিংটন এ ব্যাপারে ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত’। ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, যেখানে দুই পক্ষের জন্যই কাশ্মীর দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ইস্যু, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তান ও ভারতের আলোচনায় বসাকে স্বাগত জানায় এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হচ্ছে, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।