গণপিটুনির ঘটনাকে ডেকে আনছে সে বিষয়ে টুইটারে আশঙ্কা প্রকাশ নুসরত

আন্তর্জাতিক

‘জয় শ্রীরাম’ শব্দবন্ধ এখন আক্রমণ শানানোর অন্যতম হাতিয়ার বলে ইতিমধ্যেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের একাংশ। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নরেন্দ্র মোদীকে চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা। এ বার তাঁদের বক্তব্যকেই টুইটারে সমর্থন জানালেন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। শ্রীরামচন্দ্রের নাম জড়ানো কোনও ধর্মীয় ধ্বনি কী ভাবে ‘রণহুঙ্কার’-এ পরিণত হচ্ছে ও গণপিটুনির মতো ঘটনাকে ডেকে আনছে সে বিষয়ে টুইটারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নুসরত।

তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ দেশের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে, যা কখনওই উচিত নয়। টুইটে কবি ইকবালের ‘সারে জঁহা সে অচ্ছা’ কবিতার অংশবিশেষ তুলে ধরে ভারতবর্ষের জাতিগত বৈচিত্র ও ঐতিহ্যের কথা বলেছেন তিনি। টুইটার পোস্টে নুসরত লিখছেন, ‘‘গোমাংস খাওয়া ও গরু পাচারের নামে গুজব ছড়িয়ে সারা দেশেই গোরক্ষকরা নাগরিকদের উপর নানা ভাবে আক্রমণ শানাচ্ছেন। কিন্তু এই সব ঘটনা নিয়ে সরকার নীরব। কোনও ব্যবস্থাও নিচ্ছে না, আমি এতে ব্যথিত।’’ এমনকি, গত বছর ১৭ জুলাই গণপিটুনি প্রতিরোধে সরকারের ভূমিকার প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মনে করিয়ে তিনি আক্ষেপের স্বরে লিখেছেন ‘পর সরকার চুপ হ্যায়!’

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, শ্যাম বেনেগাল, অনুরাগ কাশ্যপ-সহ ৪৯ জন বিদ্বজ্জনের লেখা খোলা চিঠিকে সমর্থন জানিয়ে এই পোস্টে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের এক জন তরুণ সাংসদ হিসেবে গণপিটুনির মতো অপরাধ রুখতে কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দেশের সরকার ও আইনপ্রণেতাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।ইকবালের কবিতার বক্তব্যের সুরকে তুলে ধরে মানবতাকেই প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে নুসরত লিখছেন, ‘‘কেবলমাত্র গরুর নাম করে, ভগবানের নাম করে কারও দাড়ি আছে বলে বা টুপি আছে বলে এই ধরনের খুনখারাপি অবিলম্বে বন্ধ হোক।’’

২০১৪-য় মোদী কুর্শিতে আসার পর থেকে দলিত-সংখ্যালঘুদের উপর ঘৃণার ঘটনা বেড়ে গিয়েছে দাবি করে মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এই সব ঘটনায় দেশের ভবিষ্যত নিয়ে উকণ্ঠা প্রকাশের সঙ্গে গণপিটুনি রোধে সরকারের ব্যর্থতাকেও কটাক্ষ করেন তাঁরা। নুসরতের এই পোস্টে সেই বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।