সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন ইয়েদুরাপ্পা

আন্তর্জাতিক

কর্নাটকে চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন বিএস ইয়েদুরাপ্পা। শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় তার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার কথা রয়েছে।

কর্নাটকে বহুদিন ধরেই চলতি সরকারের স্থায়িত্ব এবং নতুন সরকার গঠন নিয়ে দোলাচল চলছিল। কিন্তু এতদিন বিজেপি সরাসরি সরকার গঠনের দাবি জানায়নি। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিশ্চিত হতে চেয়েছিল। আস্থা ভোটের পর জোট-সরকারের পতনের পরই কর্নাটকের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে যায় বিজেপি শিবির। তাই দেরি না করে শুক্রবার সকালেই রাজ্যপাল বাজুভাই বালার সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান ইয়েদুরাপ্পা।

২২৫ আসন বিশিষ্ট কর্নাটক বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ১০৫। এই মুহূর্তে, কর্নাটক বিধানসভায় দুই নির্দলীয় বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজেপির ঝুলিতে রয়েছে ১০৭টি আসন। যেখানে কংগ্রেস-জেডিএস জোটের রয়েছে ৯৯ সমর্থন। এর মধ্যে স্পিকার রমেশ কুমার বৃহস্পতিবার রাতেই দলত্যাগ বিরোধী আইনে ১৭ জনের মধ্যে তিনজন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের বিধানসভার সদস্যপদ খারিজ করে দিয়েছেন। তারা হলেন কংগ্রেসের আর শঙ্কর এবং আরও দুই বিদ্রোহী বিধায়ক রমেশ জারকিহোলি ও মহেশ কুমথালি। ফলে তারা আর বিধানসভার সদস্য রইলেন না। বিধানসভা ভেঙে দেওয়া না হলে ভোটেও লড়তে পারবেন না।

তিনজনের সদস্যপদ খারিজের ফলে বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ১১১ জনের সমর্থন। নির্দল ও অন্য ছোট দলের সমর্থনে বিজেপি সরকার গড়লেও পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহী বিধায়কদের ভূমিকা বিজেপির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ তারা কুমারস্বামীকে সরালেও অধিকাংশ কিন্তু কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়ার ঘনিষ্ঠ। ফলে বিদ্রোহী বিধায়কদের ইস্তফা অথবা সদস্যপদ খারিজ নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে বিজেপির কাছে। এই বিধায়কদের সঙ্গে কংগ্রেসের ফের যোগাযোগের সম্ভাবনাও খারিজ করতে পারছে না বিজেপি। এ ছাড়া, কর্নাটক মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। এ সব সমীকরণের কথা মাথায় রেখেই কিছুটা দোলাচলেও রয়েছে কর্নাটকের বিজেপি শিবির।

কারণ শপথ নেওয়ার পর স্পিকারের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও প্রমাণ করতে হবে বিধানসভায়।

২০১৮ সালের ১২ মে কর্নাটকে বিধানসভা ভোট হয়। সেই ভোটে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠাতে পেলেও, নিরঙ্কুশ জয় পায়নি। এর আগে কর্নাটকে কংগ্রেসের সরকার ছিল। কিন্তু গত বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের আসন ১২২ থেকে কমে ৮০তে দাঁড়ায়। ফলে জেডিএসের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করে কংগ্রেস। কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা বেশি থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী হন জেডিএসের এইচডি কুমারস্বামী।

কিছুদিন আগে এই জোটের ১৫ জন বিধায়ক ইস্তফাপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। সেই ইস্তফাপত্র এতদিন স্পিকার গ্রহণ করেননি। আস্থা ভোট নিয়েও টানাপড়েন চলছিল। মঙ্গলবার আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় কংগ্রেস-জেডিএস জোট। আর এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়ে ওঠে বিজেপি।

আনন্দবাজার