আপাতত উপজেলা পর্যায়ের সব ইউনিটের সম্মেলন শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগ

রাজনীতি বার্তা

আপাতত উপজেলা পর্যায়ের সব ইউনিটের সম্মেলন শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগ। জাতীয় সম্মেলনের পরপরই করা হবে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলাগুলোর সম্মেলন। যদিও গত ২০তম জাতীয় সম্মেলনের আগেই বেশির ভাগ জেলা ও উপজেলা শাখার সম্মেলন আয়োজন করেছিল দলটি। তবে সময় স্বল্পতার কারইে এবার বেশির ভাগ জেলাই সম্মেলনের বাইরে থাকছে বলে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছরের অক্টোবরেই নির্ধারিত তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথাসময়েই পরবর্তী জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের পক্ষে। অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনের নির্দেশনা দিয়ে এরই মধ্যে আটটি বিভাগীয় কমিটি গঠন করে দিয়েছেন তিনি। কমিটিগুলো সাংগঠনিক সফরসহ তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই জেলাসহ সব ইউনিটের সম্মেলন আয়োজন করা হয়ে থাকে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী ২০তম জাতীয় সম্মেলনের আগেও বেশির ভাগ জেলা উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন করেছিল দলটি। তবে এবার হাতে সময় কম থাকায় জেলা সম্মেলনকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা ৭৮টি। এর মধ্যে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের মধ্যেই বেশির ভাগ জেলার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সম্মেলনের দিন এসব জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়নি। বেশির ভাগ জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে সময় লেগেছিল এক-দেড় বছর। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ মহানগর, গাজীপুর জেলা ও মহানগরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে কমিটি ঘোষণা হয় সম্মেলন ছাড়াই। তবে এবার সম্মেলনের আগে সে রকম কিছু আর হচ্ছে না। উপজেলাগুলোর সম্মেলন শেষ করতে পারলেই কেবল জেলা সম্মেলনের দিকে যাবে ক্ষমতাসীন দলটি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তিনজন নেতা আলাপকালে বলেন, ‘দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে বর্তমান কমিটির তিন বছর মেয়াদে মাত্র একটি জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেজন্য অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনের আগে এত কম সময়ে কোনোভাবেই বাকি জেলাগুলোর সম্মেলন শেষ করা সম্ভব নয়। তবে কোনো কারণে সম্মেলন পেছানো হলে আবারো জেলা সম্মেলনে জোর দেয়া হবে। জাতীয় সম্মেলনের পরই বাকি থাকা জেলা-উপজেলা শাখার সম্মেলন করা হবে।’

দলটির ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক জেলাগুলোর সম্মেলনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ জেলারই সম্মেলন হয়েছে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্মেলনে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এসব জেলা কমিটির মেয়াদও এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। সম্মেলন ছাড়াই কমিটি দেয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগেরও। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের পর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এর তিন বছর চার মাস পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মহানগর কমিটিকে ভাগ করে কমিটি দেয়া হয়।দলের দফতর সূত্র অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় সবগুলো সাংগঠনিক জেলাই মেয়াদোত্তীর্ণ। আগামী মাস দলের জন্য শোকের মাস। এ মাসে সাধারণত দলের কোনো পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজন করা হয় না। এ ছাড়া আগামী মাসে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। অন্য দিকে দেশের উত্তরাঞ্চলে বর্তমানে বন্যা বিরাজ করছে। এটি কতদিন দীর্ঘস্থায়ী হবে তার ঠিক নেই। সব মিলিয়ে অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলন করতে হলে হাতে সময় থাকে মাত্র দেড় মাসের কম বেশি। এত অল্প সময়ে এতগুলো জেলার সম্মেলন আয়োজন করা অসম্ভব। সেজন্য আপাতত দলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর এবং উপজেলা ইউনিটগুলোকে সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে তৃণমূলও সম্মেলন আয়োজন করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া মো: গোলাম ফারুক পিংকু নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের সব ইউনিটের সম্মেলন তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য কেন্দ্র থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এরই মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার অন্তর্গত প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নকে সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছি। কেন্দ্র থেকে তারিখ দেয়া হলে উপজেলাগুলোর সম্মেলন শেষ করা হবে। আমরা জেলা সম্মেলনের জন্যও প্রস্তুত আছি। কেন্দ্রের নির্দেশ যখন পাবো তখনই জেলা সম্মেলন করতে পারব বলে আশাবাদী।’দলের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় সম্মেলনের আগে জেলা সম্মেলন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জাতীয় সম্মেলনের সাথে জেলার সম্পর্ক কাউন্সিলর ও ডেলিগেট নির্ধারণের। এ ক্ষেত্রে আমরা জাতীয় সম্মেলনের আগে জেলায় বর্ধিত সভা করে কাউন্সিলর ও ডেলিগেট লিস্ট তৈরি করব।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘অক্টোবরে সম্মেলনের বিষয়টি মাথায় রেখে এরই মধ্যে তৃণমূলকে সব স্তরে সম্মেলনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা সব সময় তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় কাউন্সিলের পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকি। সব সময় সময় স্বল্পতা বা নানান জটিলতায় হয়তো তা পরপিূর্ণভাবে পালন সম্ভব হয়ে উঠে না। এবার যে সময় আমাদের হাতে আছে তাতে অক্টোবরের মধ্যে হয়তো সর্বস্তরে সম্মেলন সম্ভব হবে না। আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সব উপজেলা এবং কিছু কিছু জেলার কাউন্সিল শেষ হয়ে যাবে। যদি অক্টোবরেই আমাদের জাতীয় কাউন্সিল হয়ে যায় তবে তারপর আবার বাকিী জেলাগুলোর কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।