কী পেলাম, কী পেলাম না সেই হিসাব করি না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বার্তা

সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে স্বপ্নটা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, আমার পিতা সেই স্বপ্নটাকে পূরণ করাটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। এর বেশি আর কোনো চিন্তা আমার নেই। কী পেলাম, কী পেলাম না, সেই হিসাব আমি মিলাই না। বাঙালি জাতি যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে সেই প্রচেষ্টাটি করা, এটিই আমার একমাত্র লক্ষ্য।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে বিরোধী দলীয় সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন।

সম্পূরক প্রশ্নে ফখরুল ইমাম বলেন, উনি ( শেখ হাসিনা) এতটা উঁচুতে চলে গেছেন, সেটির বৈষম্যটা আমরা কমাতে চাই? আজকে যেভাবে উঁচুতে উঠেছেন, যে কোনো উন্নয়নশীল দেশের লিডারশিপ ওনার পাওয়ার কথা? আমরা ওনার কাছ থেকে অনেক নিচে আছি এবং আমরা চাই, একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে? এটা কেন পারি না? আমরা কি ওনার কথা শুনি না? আমরা কি করাপসশনে জড়িত? আমাদের কী দেশপ্রেমের অভাব? আজকে যদি বিস্তারিত বলতে অসুবিধা হয় কোনো একসময় উনি যেন আমাদেরকে বলেন।

এর জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কিন্তু বলব, আমরা কিন্ত একই লেভেলে আছি, একই ফ্লোরে। খুব বেশি উঁচু জায়গায় আমরা উঠিনি। আমি জানি না, মাননীয় সংসদ সদস্য কেন ভাবছেন যে, অনেক উপরে উঠে গেছি তা কিন্তু না। আমিও একটা সংসদীয় এলাকা থেকে সংসদ সদস্য, তিনিও একটা জায়গা থেকে সংসদ সদস্য। সকল মানুষই আমরা সমান। সেটিই আমি মনে করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কী পেলাম, কী পেলাম না। সেই হিসেব আমি কখনও মিলাই না। আর কী মর্যাদা পেয়েছি না পেয়েছি, সেটি নিয়েও আমার কোনো চিন্তা নেই। আমার চিন্তা একটিই। নাই। আমি দেশের জন্য কতটুকু করতে পারলাম। মানুষকে কী দিতে পারলাম। যে মানুষগুলোর জন্য আমার পিতা জীবন দিয়ে গেছেন। সেই মানুষগুলোর জন্য কতুটুক করতে পেরেছি, আমি শুধু সেই হিসাবটা দেখি। এখানে আমার আমিত্ব বলে কিছু নেই। ওটি নিয়ে আমার কোনো চিন্তাও নেই। আমি চিন্তা করিও না।’

বিশ্বের বিভিন্ন রাজনীতিবিদ বা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে নিজের তুলনায় বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়। আমি যেভাবে আপনজন হারিয়েছি, সেই ছোটবেলা থেকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে। বারবার পিতাকে জেলে দেখেছি। কখনো ঘরে কখনো জেলে মা সারাক্ষণ ব্যস্ত। এই স্কুল-কলেজে পড়তে যেয়ে বারবার বাধার সম্মুখীন..। একটা কলেজে ভর্তি হতে গেলে সেই দেশের সরকার যদি বাধা দেয় বা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে গেলে, সেই দেশের সরকার যদি বাধা দেয়, তাহলে আমরা কীসের মধ্যে দিয়ে আমাদের জীবনটা চলেছে, সেটি হয়ত কেউ চিন্তাও করতে পারবে না। কিন্তু আজকে বিশ্বের অনেকের সঙ্গে যখন তুলনা করে, তাদের কিন্তু এত ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে চলতে হয়নি। বারবার মৃত্যুকে সম্মুখে দেখেছি। কিন্তু কখনো পিছিয়ে যাইনি। চলার পথে যতই বাধা এসেছে, অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি। সামনে একটাই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রেখে, এই বাংলাদেশ; যে বাংলাদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। সেই বাংলাদেশকে তার স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে হবে।’

‘বাংলাদেশের যে মানুষগুলি দারিদ্র্য বা দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে বা যারা একবেলা খেতে পারে না, চিকিৎসা পায় না। শিক্ষা পায় না। তাদের জীবনকে পরিবর্তন করতে হবে। তাদের জীবনকে উন্নত করতে হবে। তাদের জীবনটাকে আরও সুন্দরভাবে গড়তে হবে। যে স্বপ্নটা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, আমার পিতা, সেই স্বপ্নটাকে পূরণ করাটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। এর বেশি আর কোনো চিন্তা আমার নেই’ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।