অমন বিধ্বংসী ইনিংস খেলার আগে কী খেয়েছিলেন রাসেল?

খেলা বার্তা

আন্দ্রে রাসেল ক্রিজে দাঁড়িয়ে গেলে কী হয়। সেটি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তার একার তাণ্ডবেই বঙ্গবন্ধু বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী রয়্যালসের কাছে হেরে গেছে তারা। এতে টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভালো খেলেও বিদায় নিয়েছে বন্দরনগরীর দলটি।

জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে রাজশাহীর দরকার ছিল ৩১ রান। হাতে ছিল মাত্র ২ উইকেট। এ পরিস্থিতিতে চার-ছক্কার বৃষ্টিতে মাত্র ৮ বলে এ রান তুলে ফেলেন রাসেল। তাতে থেমে যায় চট্টগ্রামের অগ্রযাত্রার দৌড়। স্বপ্নভঙ্গ হয় বিপিএলে ফাইনাল খেলার। আর শিরোপা নির্ধারণীতে খেলার টিকিট পায় উত্তরবঙ্গের দলটি।

চট্টগ্রামের দেয়া ১৬৫ রান তাড়া করতে নেমে বারবার হোঁচট খায় রাজশাহী। ১৭.১ ওভারে ১২৮ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তাতে হারের শঙ্কা জেঁকে বসে বরেন্দ্রভূমির দলটির কাঁধে। আর জিতেই যাচ্ছিল চট্টগ্রাম।

এ পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে ২২ বলে ৫৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রাসেল। ৭ ছক্কার বিপরীতে ২ চারে বিস্ফোরক ইনিংসটি সাজান তিনি। শেষ পর্যন্ত তাতে ভর করে ২ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে ফাইনালি লড়াইয়ে নাম লেখায় ধুঁকতে থাকা রাজশাহী।

একরকম একা হাতে বীরোচিত ইনিংস খেলে চট্টগ্রামের কপালে পরাজয়ের তিলক এঁকে দিয়েছেন রাসেল। আর অপরাজেয় ইনিংস খেলে রাজশাহীকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি। তো তার এমন অতিমানবীয় ইনিংস খেলার রহস্য কী? অবশ্য এর আগেও টি-টোয়েন্টিতে অমন ব্যাটিংয়ে বিশেষ সুখ্যাতি আছে ক্যারিবীয় হার্ডহিটারের। বিপিএলের সপ্তম আসে আরেকবার সেটি প্রমাণ করতে বেছে নেন চট্টগ্রামকে।

বুধবার মিরপুরে ম্যাচ-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসে শিস বাজাতে শুরু করেন রাসেল। কখনও চোখ টিপ মারেন। স্বভাবসুলভ আমুদে ক্যারিবীয় হিসেবেই নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি। স্বভাবতই তাকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন এক সাংবাদিক– ব্যাটিংয়ে নামার আগে কী খেয়েছিলেন ‘দ্রি রাস’? জবাবে রাসেল বলেন, বেশি কিছু নয়, কিছু ফল খেয়েছিলাম। সঙ্গে ডাবের পানি পান করেছিলাম।

এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটবিশ্বের যে কোনো ব্যাটসম্যানের কাছেই ওমন ইনিংস খেলা দুরূহ। অথচ আরামসে তা করে দেখিয়েছেন রাসেল। কিন্তু সেটি যে সহজ ছিল না তা অবলীলায় স্বীকার করেছেন তিনি।

রাসেল বলেন, কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। একবার মিস টাইমিং হয়ে গেলেই সর্বনাশ ঘটতে পারত। আউট হয়ে যেতে পারতাম আমি। শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষ দলের ফিল্ডিং পজিশন দেখেছি। বারবার মাঝ ব্যাটে বল লাগতে চেয়েছি, যেন তা সীমার ওপারে গিয়ে পড়ে।

নবম উইকেটে আবু জায়েদের সঙ্গে ম্যাচ জেতানো ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন রাসেল। এর মধ্যে মাত্র ৫ রান করেন জায়েদ। শেষ অবধি টিকে থাকায় এবং দুরন্ত সঙ্গ দেয়ায় তাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান ক্যারিবীয় হার্ডহিটার।

তিনি বলেন, অপর প্রান্তে মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। এক পাশে থেকে শেষ পর্যন্ত খেলতে চেয়েছি আমি। তবে অন্য পাশ নিয়ে ভয় ছিল। জায়েদকে ধন্যবাদ। সে দারুণ সঙ্গ দিয়েছে।