যে কারণে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন না মুশফিক

খেলা বার্তা

বোমা ভীতি কিংবা পাকিস্তানের কমান্ডো বাহিনীর একে ৪৭ হাতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় বিরক্ত হয়ে ন। পারিবারিক কারণেই মূলত আসন্ন পাকিস্তান সফরে যেতে চাইছেন না, দেশ সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।

গেল নভেম্বরে কলকাতায় প্রিয় ছেলে মুশফিকুর রহিমের টেস্ট ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন বাবা আব্দুল হামিদ তারা। সেখানেই বাবাকে বলেছিলেন, লম্বা সময় বিশ্রাম নেওয়া হয় না তাই বিপিএল শেষে বিশ্রামে থাকবেন। তখন পাকিস্তান সফরের কিছুই চূড়ান্ত হয়নি, শুধু জানতেন জানুয়ারির শেষ দিকে কোন এক সময় সংক্ষিপ্ত সফরে যেতে হবে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের শুরুর কিছুদিন আগে চাচাত বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। কিন্তু মুশফিকের অনুপস্থিতিতে কণ্যাকে প্রাত্রস্থ করতে রাজী হননি মুশফিকের চাচা। দিনক্ষণ ঠিক করতে মুশফিকের শরণাপন্ন হলে তিনি জানিয়েছেন ২৪ জানুয়ারির আগে সম্ভব না। যেহেতু ১৭ জানুয়ারি বিপিএল ফাইনাল সেহেতু তিনি এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। এবং তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ২৪ জানুয়ারি বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। মূলত এই দুইটি বিষয়ই মুশফিকের পাকিস্তাসন সফরে বাঁধ সেধেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) মুঠোফোনে এতথ্য দিলেন মুশফিকের বাবা আব্দুল হামিদ তারা।

বাবা আব্দুল হামিদ তখন বাসে। বগুড়া থেকে ঢাকায় আসছেন বিপিএল ফাইনালে ছেলের খেলা দেখতে। আসতে আসতে মুঠো ফোনে সেকথাই জানাচ্ছিলেন।

‘আমি কলকাতায় ওর টেস্ট ম্যাচটি দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে বলেছিলে ওর বিশ্রাম প্রয়োজন। অনেক দিন বিশ্রাম পায় না। এর চাইতেও বড় কারণ হল, ওর চাচাত বোনের বিয়ে। আমার বড় ভাইর মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। ঠিক করার আগে মুশফিকের কাছে তারিখ জানতে চাওয়া হল, ও বলল, ২৪ জানুয়ারি। যেহেতু ১৭ তারিখ বিপিএলের ফাইনাল সেহেতু ও দিনটির কথা বলেছে।’

কথার এক পর্যায়ে কাছে পাকিস্তান সফরে মুশফিকের অনাগ্রহ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের করা মুখরোচক সংবাদ নিয়েও অশ্বস্তি প্রকাশ করলেন বাবা আব্দুল হামিদ তারা।

‘পত্রিকাগুলো লিখছে ও নাকি ভয় পেয়ে পাকিস্তানে যাচ্ছে না। এটা কোন কথা হল বলেন? ও দেশের জন্য খেলে এবং আগামিতেও খেলবে। আগে থেকেই ওর চাচাত বোনের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। এবং এই তারিখটা দেওয়া হয়েছে ওর কাছে শুনেই। তখন তো পাকিস্তান সিরিজের কিছু্ই ঠিক হয়নি।’

এদিকে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে গত পরশু সমঝোতায় পৌঁছেছে বিসিবি ও পিসিবি। এবং সিরিজের সূচিও ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে দেশটিতে সফর করবে। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ২৪ -২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে হবে তিন ম্যাচ সিরিজের টি টোয়েন্টি।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে দেশে ফিরে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচে খেলতে ফেব্রুয়ারীতে রাওয়ালপিন্ডি যাবে টিম টাইগার্স। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে ৭-১১ ফেব্রুয়ারি।

প্রথম টেস্ট ম্যাচ শেষে দেশে ফিরে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে খেলতে এপ্রিলে আবার পাকিস্তান সফর করবে মুশফিকু-মাহমুদউল্লাহরা। ৪ এপ্রিল এখানেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচটি।দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচের ভেন্যুও করাচি। ৫-৯ এপ্রিল এখানেই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। কিন্তু সেই সিরিজে থাকবেন না প্রাণ ভোমড়া মুশফিকুর রহিম।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে যেন মুশফিকের ব্যাটে রানের ফল্গুধারা বইছে। ১৩ ম্যাচে ৭৮.৩৩ গড়ে ৪৭০ রান নিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আছেন সর্বাগ্রে। অধিনায়ক মুশফিক তো আরো ক্ষুরধার। সামনে থেকে নিপুন নেতৃত্বে খুলনা টাইগার্সকে সবার আগে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে তুলেছেন।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি)মিরপুর শের ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে সেই ফাইনালে খেলবেন মুশফিকুর রহিম। আর গ্যালারিতে বসে প্রিয় ছেলের দলকে সমর্থন জানাবেন ক্রিকেট প্রেমি বাবা আব্দুল হামিদ তারা।