ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই: আবদুল মান্নান

রাজনীতি বার্তা

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই। কিন্তু ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কিছু অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুজব ছড়াচ্ছে। সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার, প্রচার করা হচ্ছে এক জেলায় ১৭ হাজার। ডেঙ্গু নিয়ে কোন ধরনের গুজবে কান দেবেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে থেকে ও দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে আছে তা নিয়মিত তদারকি করছেন। তিনি গতকাল ৩ আগস্ট বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী মশক নিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদেরকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগের চেয়ে অন্যান্য জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। দেশের সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা, ডেঙ্গু শনাক্ত করণে কীট সরবরাহসহ সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে সরকার। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ডেঙ্গু চিকিৎসার ফি কত টাকা নিবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এর পরও কিছু কিছু বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল ডেঙ্গু চিকিৎসা ও মেডিকেল টেস্টের নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ওইসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একজন ডেঙ্গু রোগীর জন্য তাৎক্ষণিক কি করণীয় তার সকল ব্যবস্থা হাসপাতালে আছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত সকল কর্মচারীকে জনগণের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট থাকতে বাধ্য। ডেঙ্গুর বিষয়টি সারাদেশে দুর্যোগ হিসেবে দেখা দেয়ার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষেও তাদের ছুটি থাকবে না। আশা করি ৮/১০ দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে। ঘরে যদি এডিস মশা থাকে তাহলে বাইরে নিরাপদ রেখে কোন লাভ নেই। আমরা সকলে নিজের কর্মস্থল, বাড়ি-ঘর ও আঙ্গিনা নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গু রোধ করা সম্ভব হবে। এজন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। বিভাগীয় প্রশাসন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় ইতোমধ্যে নানা ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করেছে।তিনি বলেন, সরকারি মহিলা কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান আয়োজনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- শিক্ষকদের অনেক দায়-দায়িত্ব আছে। শিক্ষকরা তাদের নিজ নিজ স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মশক নিধন, ডেঙ্গু রোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন করবেন। শিক্ষার্থীরা সচেতন হলে তারা তাদের পিতা-মাতাকে সচেতন করবে ও নিজ দায়িত্বে বাড়ির আশপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, এডিস মশা থেকে রক্ষায় ঘর ও আশপাশের যেকোন পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, কন্টেনার, মটকা, ব্যাটারি শেল ও পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। এগুলো সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। নোংরা ও ময়লা পানিতে এডিশ মশা ডিম পারে না। পাড়া-মহল্লায়, বাস স্টেশন, রেল স্টেশন, বিমান বন্দর এলাকা গুলোতে বিভিন্ন শ্রেণীর মশা ও এডিস মশার বংশ বিস্তার হতে পারে।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহার সভাপতিত্বে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক (কলেজ শাখা) প্রফেসর গোলাম মাওলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মশক নিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন চৌধুরী, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক (স্কুল শাখা) হোসনে আরা বেগম ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জি.এম তৈয়ব আলী।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোঃ নুরুল আলম নিজামী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু হাসান সিদ্দিক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা হাসান রশিদ, নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, বিভাগীয়-জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ, জেলা- থানা শিক্ষা অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।
শেষে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে কলেজ ক্যাম্পাসে মশক নিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে একটি র‌্যালি বের করা হয় এবং সেখানে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রে দিয়ে মশক নিধন ওষুধ ছিটায়।