প্রতিদিন নগরীতে প্রবেশ করছে পশুবাহী ট্রাক

বিবিধ

প্রতিদিন নগরীতে প্রবেশ করছে পশুবাহী ট্রাক। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব পশুর মধ্যে দেশি গরুর সংখ্যাই বেশি। এদিকে, নগরীর স্থায়ী-অস্থায়ী ৯টি পশু বাজারের ইজারাদাররা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। বাজারের মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বাঁশ বেঁধে ত্রিপল টাঙানো হয়েছে। ইজারাদাররা জানান, এ বছর উত্তরাঞ্চল থেকে আশাব্যাঞ্জক গরু এসেছে। এছাড়া আরো গরু আসার পথে রয়েছে। দেশীয় গরুর সাথে ভারত ও মিয়ানমারের গরু যুক্ত হলে চলতি বছর গরুর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকবে। পুরোদমে বেচাবিক্রি শুরু হতে আরো দুদিন লাগতে পারে বলে জানান তারা।জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) স্থায়ী বাজার সাগরিকা পশু বাজার, বিবিরহাট পশুর বাজার এবং পোস্তারপাড়ে ছাগলের বাজার ছাড়াও ৬টি অস্থায়ী বাজার ইজারা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অস্থায়ী বাজারগুলোতে প্রচুর পশুর সমাগম হয়েছে। এসব বাজারের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী নুর নগর হাউজিং এস্টেট, কাটগড় গরুর বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার, স্টিল মিল গরুর বাজার, কমল মহাজন হাট গরুর বাজার ও এয়ারপোর্ট রোডের বাটারফ্লাই পার্ক সংলগ্ন টিকে গ্রুপের খালি মাঠের পশু বাজার। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে আরো কিছু পশুর বাজার। তবে সেইসব বাজারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে চসিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। গতকালও বেশ কয়েকটি অবৈধ বাজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কয়েকজন পশু ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর পশুর সরবরাহ অনেক বেড়েছে। তবে এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত গরু বেশি। তাই দামও না বেড়ে উল্টো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্দিষ্ট বাজারে পশুবাহী ট্রাক আসার পথে জোরপূর্বক অন্য বাজারে পশু নামাতে বাধ্য করছেন।গতকাল নগরীর দুই স্থায়ী পশুর বাজার সাগরিকা ও বিবিরহাট ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি থেকে রক্ষার পেতে পুরো বাজারে থ্রিপল টাঙানো হয়েছে। সারি সারি বাঁশ পুঁতে বেঁধে রাখা হয়েছে গরু ও মহিষ। সাগরিকা এবং বিবিরহাট বাজারে সবসময় বড় গরুর চাহিদা বেশি। তাই বেপারিরাও সারা বছর ধরে বড় গরু প্রতিপালন করে অধিক মুনাফার আশা নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন।জানা গেছে, নগরীতে পশুর বাজারগুলোতে এখনো চট্টগ্রামের স্থানীয় গরু আসেনি। তবে দেশীয় গরুর মধ্যে কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, যশোর, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের অনেক ব্যবসায়ী গরু নিয়ে এসেছেন। এসব ব্যবসায়ীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে সাগরিকা ও বিবিরহাট বাজার। দেশীয় গরু ছাড়াও বাজারে কিছু সংখ্যক ভারত, মিয়ানমার ও নেপালের গরু এসেছে।

সাগরিকা বাজারে আসা সিরাজগঞ্জের খামারি মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, নিজস্ব খামারে এ বছর ৫০টি উন্নত জাতের গরু প্রতিপালন করেছি। এর মধ্যে ৩৫টি নিয়ে এসেছি। বাকি ১৫টি অবস্থা বুঝে আনব। গরুগুলোর দাম পড়বে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।বিবিরহাট বাজারে আসা যশোরের খামারি ইদ্রিস মিয়া বলেন, প্রতি বছরই সাগরিকা বাজারে গরু নিয়ে আসছি। গত বছর গরু এনেছিলাম ৩০টি। এবার ৫৫টি গরু নিয়ে এসেছি। চট্টগ্রামের লোকজন বড় গরু কিনে কোরবানি দেয়। তাই এবারও বড় গরু নিয়ে এলাম। গরুর ব্যবসায় কপাল ভালো হলে লাভ হয়, আবার খারাপ হলে লোকসান হয়। তবে গতবার ভালো লাভ করতে পেরেছি। আশা করি এবারও সেইরকম কিছু হবে।সাগরিকা পশু বাজারের ইজারাদার জামশেদ খান বলেন, বাজারে শতভাগ প্রস্তুতি শেষ করেছি। ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের নানা জায়গা থেকে পশুবাহী ট্রাকে প্রচুর গরু এবং মহিষ এসেছে। বাজার ইতোমধ্যে প্রায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। বেপারিরা জানিয়েছে, তাদের পশুবাহী ট্রাক এখনো রাস্তায় রয়েছে। তবে অবৈধ বাজারের বিষয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কারণে স্বস্তি এসেছে। আমাদের দাবি, অনুমোদনহীন বাজারের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত যেন ঈদের আগের দিন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখে।

বিবিরহাট বাজারের ইজারাদার জাগির আহমেদ বলেন, বিবিরহাট বাজার স্থায়ী পশুর বাজার হিসেবে প্রসিদ্ধ। বেপারিরাও এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে পশু বেচাকেনা করতে পারেন। আজকে (গতকাল) পর্যন্ত ভালো পশু এসেছে। বিশেষ করে বাজারে বড় গরুর সংখ্যা বেশি। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে। এখন অবশ্য ক্রেতা সমাগম হচ্ছে না। কিছু কিছু ক্রেতা বাজার যাচাই করতে আসছেন।এদিকে, কর্ণফুলী নুর নগর হাউজিং এস্টেটের অস্থায়ী পশু বাজারেও পশু প্রবেশ করছে। বাজারটির ইজারাদার সাইফুল আলম বলেন, এখনো পর্যন্ত প্রত্যাশা মতো গরু আসেনি। বেপারিরা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক ট্রাক থেকে গরু নামাতে বাধ্য করছেন। এতে তারা আসতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।এছাড়া কাটগড় গরুর বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার, স্টিল মিল গরুর বাজার, কমল মহাজন হাট গরুর বাজার ও পোস্তারপাড়ের ছাগল বাজার এবং বাটারফ্লাই পার্ক সংলগ্ন টিকে গ্রুপের খালি মাঠের বাজারেও প্রচুর পশু সমাগম হয়েছে। ক্রেতার অপেক্ষায় এসব বাজারের বেপারিরা।