কাশ্মীরের মুসলিমদের ঈদ পালন নিয়ে যা বললেন মোদি

আন্তর্জাতিক

ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়া হয়েছে। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীর থেকে লাদাখকে ছিন্ন করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। গেল সোমবার গুরুত্বপূর্ণ দুই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ৪০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয় সেখানে।উপত্যকার অধিকাংশ জায়গায় ফোন, ক্যাবল অপারেটর এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। রবিবার গভীর রাতে স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। স্থানীয়রা জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে পারলেও তাদের প্রয়োজন সংক্রান্ত প্রমাণ সঙ্গে রাখতে হচ্ছে।

এদিকে সামনেই ঈদ। মুসলমান প্রধান এই অঞ্চলে ঈদ ও জুম্মার নামাজ পড়ার সময় এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে কিনা সেগুলো নিয়েও ছিল ধোঁয়াশা। ঠিক এমই এক পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। অনেকেই আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। অনেকেই রয়েছেন এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। যারা আমাদের পক্ষে নেই আমি তাদের মতের প্রতি সম্মান জানাই। অনেকেই নানা প্রশ্ন করছেন। আমরা চেষ্টা করছি সেগুলোর উত্তর দেয়ার। আমরা আশা করি, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। ৩৭০ ধারা থেকে মুক্তি একটি সত্য। এটাও সত্য ঠিক এই সময়টায় বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অনেকেই পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি এগুলো স্থানীয়রাই দমন করবে।

ভারতের সব জায়গার বাসিন্দাদের সঠিক ভাবে জীবন যাপন করার অধিকার রয়েছে। যারা এত দিন বঞ্চিত ছিল আশা করি সবাই এখন সুবিধা পাবে।’আগামী ১২ তারিখ পালন করা হবে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। সে প্রসঙ্গটি সামনে এনে মোদি বলেন, এখানকার বাসিন্দাদের জানাই ঈদ মোবারক। ঈদ পালনে জম্মু-কাশ্মীরে কারও কোনও সমস্যা হবে না। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে যারা বর্তমানে বাইরে আছে, তাদেরকে বাড়ি পৌঁছাতে সরকার সহায়তা করবে।বিজেপির এই নেতা বলেন, আমি বিশ্বাস করি পরিবর্তন সম্ভব, উন্নয়নও সম্ভব। আসুন আমরা সবাই মিলে নতুন ভারতের সঙ্গে নতুন জম্মু-কাশ্মীর ও নতুন লাদাখ গড়ি।