ডেঙ্গু সেরে গ্রামে গিয়েও ঈদ করা হলো না রুসা’র

জেলা বার্তা

ঝালকাঠিতে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করা হলোনা শিশু সামিয়া আমীন রুসার। শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল ৮টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। রুসার গ্রামের বাড়ি (দাদাবাড়ি) ঝালকাঠির রাজাপুরে এখন শোকের মাতম।

শিশুটির বাবা রুহুল আমীন হাওলাদার জানান, গত বৃহস্পতিবার ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বাবা, মা ও ভাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি রাজাপুরের জীবনদাসকাঠিতে ঈদ করতে আসে রুসা। ঢাকা থেকেই সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলেও সেরে যায়। তাই ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি আসে। কিন্তু গ্রামের বাড়ি রাজাপুর এসেই আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে স্থানায়ী একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট না থাকায় শুক্রবার বরিশালের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় তাকে। আর সেখানেই প্রথমে ডেঙ্গু ভাইরাসে আকান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

কিন্তু শুক্রবার রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে রুসা। তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি। শনিবার সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসক তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করে। দুপুরে রুসার মৃতদেহ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। একদিন পরেই যে বাড়িতে তার ঈদ করার কথা, সেখানে আজ কেবলই কান্নার রোল।

রুসার মা-বাবা, ভাইসহ আত্মীয় পরিজনের কান্নায় হৃদয় বিদারক দৃশ্য। কেবল রুসার পরিবারই নয়, পুরো এলাকাজুড়ে ঈদ আনন্দ বিলিন হয়ে গেছে। রুসা ঢাকার মোহাম্মদপুরের ওয়াই ডব্লিসি জুনিয়ার গার্লস স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। তার বাবা রুহুল আমীন হাওলাদার ঢাকায় একটি বিদেশী কোম্পানীতে চাকরী করেন। মা সাথী আক্তার গৃহীনি। দুই ভাই বোনের মধ্যে রুসাই ছোট।