জিনস, টি-শার্ট পরা নিয়ে আপত্তি, নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

জেলা বার্তা

কেয়ার বয়স ২০। এক বছরও হয়নি বিয়ে হয়েছে। সাজগোজ করতে ভালবাসতেন। জিনস-টি শার্টও পরতেন। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বৌয়ের সাজপোশাক পছন্দ ছিল না। এই নিয়ে সংসারে অশান্তি চলছিল। ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে কেয়া দাস নামের এই গৃহবধূর। গ্রেফতার করা হয়েছে জা এবং শ্বশুরকে। এমনটাই ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। কেয়ার পরিবারের অভিযোগ, পোশাক-আশাক পছন্দ হতো না বলে কেয়াকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে দিয়েছে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। অবশ্য কেয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি শ্বশুর পক্ষের। দেশটির গণমাধ্যম জানায়, কেয়ার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটির মালঞ্চ শান্তিনগরে। একই পাড়ার বান্টির সঙ্গে প্রেম। বিয়ে হয়েছিল এগারো মাস আগে। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি। অভিযোগ, বান্টির আপত্তি না থাকলেও কেয়ার পোশাক-আশাক নিয়ে গালমন্দ করতো শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

জানা গেছে, তিন দিন আগে বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন কেয়া। সেখানে ভাইয়ের কাছে স্কুটি চালানো শিখছিলেন। সেটা চোখে পড়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফিরলে এনিয়ে শুরু হয় ঝগড়া। আর শুক্রবার দুপুরে মিলে কেয়ার ঝুলন্ত লাশ।
কেয়ার ফুফু সারথি দে বলেন, এটা আত্মহত্যা বলে আমরা মানি না। ওকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে নানা খোঁটা দিত শ্বশুর, জা-সহ পরিবারের অন্যরা। কেয়া জিন্স, টি-শার্ট পরতে ভালোবাসতো। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজনের তাতে ঘোর আপত্তি ছিল।

কেয়ার পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, নৈহাটি থানা প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি। প্রতিবাদে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মরদেহ নিয়ে থানার কাছে পথ অবরোধে বসেন প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ অভিযোগ নেয়।
খুনের অভিযোগ মানছেন না কেয়ার স্বামী বান্টি। তার কথায়, ও জিন্স, টি-শার্ট পরতে ভালোবাসতো। কিন্তু আমাদের বাড়ি থেকে তাতে আপত্তি ছিল। আমি বলেছিলাম, ঝামেলা করার কী দরকার। আমরা যখন বেড়াতে যাব, তখন যা খুশি পরো। এসবের জেরে ও এমন কাণ্ড ঘটাবে ভাবতে পারিনি।