জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ

রাজনীতি বার্তা

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
বুধবার সকালে হাসপাতালে ভর্তির পর গত তিন দিনে অবস্থার দৃশ্যমান কিছুটা উন্নতি মনে হলেও গতকাল রবিবার ভোর থেকে তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়েছে। ফুসফুসে পানি জমেছে, ফলে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। চিকিত্সকরা কৃত্রিম উপায়ে তাকে অক্সিজেন দিয়ে রেখেছেন।
এদিকে, সিএমএইচ-এর আইসিইউ লাউঞ্জে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা উদ্বিগ্ন সময় কাটছে। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি দলের চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো খবর নেই তাদের কাছে।

আইসিইউ লাউঞ্জে স্থাপিত মনিটরটিও এখন বন্ধ। ২৬ জুন ভর্তির পর সব সময় মনিটরে এরশাদকে দেখানো হতো। কিন্তু রোববার (৩০ জুন) বিকাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় মনিটর। আগে দুর থেকে মনিটরে দেখে স্বস্তি বোধ করতেন কর্মী ও পরিবারের লোকজন, এখন সেটিও নেই।
সিএমএইচে এরশাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক থাকা তার ব্যক্তিগত স্টাফদের সঙ্গে গতকাল কয়েক দফা কথা বলে জানা গেছে, এরশাদ গতকাল সারাদিন একবারের জন্যও কথা বলার চেষ্টা করেননি। চোখও মেলেননি। মাঝে-মধ্যে হাত-পা নাড়াচ্ছেন। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে। দুর্বলতা কাটাতে চিকিত্সকরা স্যালাইন দিয়ে রেখেছেন।

গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে এরশাদের প্রচণ্ড কাঁপুনি দিয়ে দফায়-দফায় জ্বর আসে। অবস্থা খারাপের দিকে গেলে বুধবার সকালে তাকে সিএমএইচের ক্রিটিক্যাল ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর প্রতিদিনই তাকে দেখতে গেছেন স্ত্রী ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। গতকাল দুপুরেও তিনি এরশাদকে দেখতে যান।
রওশন এরশাদ জানান, ‘আমি সিএমএইচ থেকে দুপুরে সংসদে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার লবিতে দেখা করেছি। এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমি সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কয়েকবার সিএমএইচে কথা বলেছি। উনার চিকিত্সার জন্য টাকার কোনো সমস্যা হবে না। চিকিত্সকরা যদি মনে করেন বিদেশে নেওয়া দরকার সেই ব্যবস্থাও করা হবে।’

এদিকে গতকাল বিকালে রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এরশাদের অবস্থা সম্পর্কে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘আজ (রবিবার) থেকে এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়েছে। এমনকি ফুসফুসে পানি জমেছে। যে কারণে তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন না। চিকিত্সকরা তাকে অক্সিজেনের সাপোর্ট দিয়ে রেখেছেন।’
তিনি জানান, চিকিত্সকরা দুই দফায় বোর্ড বসিয়েছেন। সিএমএইচের চিকিত্সায় আমরা সন্তুষ্ট। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরশাদ সাহেবের চিকিত্সার জন্য অর্থের কোনো সংকট হবে না। তিনি বিরোধী দলের নেতা ও সাবেক সেনা প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।