‘এই জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো’

জেলা বার্তা

পিঠের মাংসে পচন ধরেছে। খুলে পড়ছে পোকাও। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার অভাবে পিঠে দেখা দিয়েছে দগদগে ঘাঁ। দুর্গন্ধে কেউ পাশে ভিড়তে পারছে না। বিনা চিকিৎসায় ব্যাথায় ছটফট করছে ১৪ বছরের কোহিনুর। কোহিনুর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেনের মেয়ে। হতভাগী কোহিনুরের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই।

কোহিনুরের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৪ বছর আগে হঠাৎ করে মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার পিঠে অপারেশন করে তিনটি রড স্থাপন করা হয়। সেই থেকে শরীরে রডের বোঁঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কোহিনুর। অর্থের অভাবে নির্ধারিত সময়ে সেই রড খুলতে না পারায় চামড়া ভেদ করে রডগুলো বেরিয়ে গিয়ে ওই স্থানে পচন ধরে পোকা হয়ে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ঔষধ কিনে খাওয়ার টাকা না থাকায় প্রতিনিয়ত প্রচন্ড যন্ত্রনা তাকে ভোগ করতে হচ্ছে।
কোহিনুরের পৃথিবীতে ৫ বছরের একমাত্র ছোট ভাই ছাড়া আর কেউ নেই। নিজে দোকানে দোকানে ভিক্ষা করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছোট ভাইকে রসুল্লাবাদ হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়াচ্ছেন তিনি। বসবাস করছেন একজনের দেয়া ঝুপড়ি ঘরে।

চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কোহিনুর বলেন, শরীরের বিষ ব্যাথায় কানতে কানতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, পচনের স্থানে পোকা ধরে গেছে, পোকার কামড় আর সহ্য করতে পারছি না। এই জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।

নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে ও সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়ে কোহিনুর বেগম বলেন, আমি এই জগতে এতিম, আমার মা বাবা কেউ নেই, আপনাদের সহযোগিতা পেলে হয়তো এই যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পাবো।
চিকিৎসকরা জানান, কোহিনুরকে বাাঁচাতে হলে দ্রুত ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে নিতে হবে। দেরি হলে ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হলে ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পড়লে তাকে বাঁচানো অসম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কোহিনুরের পাশে দাড়িয়েছেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম। তিন আজ সোমবার (১ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যেটিতে করে কোহিনুরকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। ঢাকায় এনে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।
কোহিনুরকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন মহিবুল্লাহ্ আকাশ: ০১৮১৫৩০১৩০২ নম্বরে।