শিক্ষকের চড়ে ব্রেনে রক্ত জমে হাসপাতালে শিক্ষার্থী

অপরাধ জেলা বার্তা

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের চড়-থাপ্পড়ে ব্রেনে রক্ত জমে আলেকজান্ডার সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রাকিবুল হাসান ঢাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রের মা রাবেয়া বেগম রামগতি থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন।

বদরুল আলম নামে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

এবারের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন।হাসানের মা রাবেয়া বেগম জানান, তার ছেলের শারীরিক অবস্থায় তিনি উদ্বিগ্ন। জ্ঞান ফিরলেও সে বারবার অচেতন হয়ে পড়ছে। হাসান রামগতি উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত মিজানুর রহমানের ছেলে। অভিযুক্ত বদরুল আলম ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

হাসানের মা রাবেয়া বেগম বলেন, রোববার (২৫ আগস্ট) সকালে শ্রেণি কক্ষে সামনে- পেছনে বসাকে কেন্দ্র করে সহপাঠিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখে শিক্ষক বদরুল আলম ক্ষিপ্ত হয়ে হাসানকে চড় থাপ্পড় দেয়। তাৎক্ষণিক সে অসুস্থতা অনুভব করে। বিষয়টি সে শিক্ষককে জানালেও তিনি কর্ণপাত না করে জোরপূর্বক হাসানকে বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে কোমর ওপরে উঠিয়ে রাখতে বাধ্য করা হয়। ওই সময় কোমর নামালে ফের তার পিঠে থাপ্পড় দেয় অভিযুক্ত শিক্ষক।

এ সময় হাত-পা সোজা হয়ে আসছে বলে আকুতি করে হাসান। এক পর্যায়ে হাসান অচেতন হয়ে পড়লে শিক্ষক আরিফসহ শিক্ষার্থীরা হাসানকে উদ্ধার করে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে নোয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় হাসানের ব্রেনে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে ভর্তি রাখা হয়নি। পরে তাকে ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে ঘুরে হাসানের সহপাঠিদের সাথে কথা বলে ঘটনার সতত্যা পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক বদরুল আলম বলেন, হাসানকে অচেতন হয়ে যাওয়ার মত মারধর করা হয়নি। তবে পিঠে আস্তে করে থাপ্পড় দিয়ে বেঞ্চের নিচে মাথা রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।রামগতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল গিয়েছি। এ নিয়ে হাসানের সহপাঠি, মা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।রামগতি থানার ওসি আরিচুল হক বলেন, স্কুলছাত্র হাসানের মা থানায় জিডি করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।