যে ম্যাচ ঘিরে অ নে ক প্রশ্ন

খেলা বার্তা

গতকাল এজবাস্টনের মাঠে ভারত বনাম ইংল্যান্ডের জমাটি লড়াই দেখার জন্যে মুখিয়ে ছিল ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু ময়দানী লড়াইয়ে একতরফা শাসন করেছে ব্রিটশিরা। ম্যাচ শেষে ভারতের লজ্জার হারে ক্ষোভে ফুঁসছেন ক্রিকেট সমর্থকেরা।বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের সমর্থকরা।কারনটা অবশ্যই সবার জানা। ভারত কী ম্যাচ হারল দুর্দান্ত ইংরেজ বাহিনীর সামনে, না অন্য কিছু? কারণ খুঁজল ‘বার্তাবাজার’।

হয়ত অনেকে বলবেন দুই দলের এক দল তো নিশ্চত হারবেভবড় জোড় নিস্প্রাণ ড্রয়ের মাধ্যমে শেষ হবে।এমনটা যারা ভেবে থাকেন সেটাও শতভাগ সঠিক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১ রানে হেরেছে ভারত। তবে ভারতের এই হারেই উঠেছে হাজার প্রশ্ন। আপাতত যার কোনো জবাব নেই কারো কাছেই।

আসুন প্রথমেই কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা যাক-

ইংল্যান্ডের দেয়া ৩৩৭ রানের লক্ষ্যটা ইন্ডিয়ার জন্য কঠিন বলে মনে হচ্ছে না।যদিও আমরা সকলে জানি, ক্রিকেট মহা অনিশ্চয়তার খেলা।তবে জিততে হবে এমন শরিরী ভাষা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বেশি একটা পরিলক্ষিত হয়নি।

একঃ শেষ পাঁ ওভারের সময় ব্যাট হাতে ছিলেন সাবেক ক্যাপ্টেন ধোনি ও কেদার জাদব।জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭১ রান। কিন্তু দুজনে মিলে শেষ পাঁচ ওভারে সংগ্রহ করেন ৩৯ রান।?

দুইঃ শেষ ৫ ওভারে ছ্ক্কা একটি। চার এসেছে কেবল তিনটি।

তিনঃ ৪৪:৫ ওভারের সময় কাটা পড়েন হার্দিক পান্ডিয়া। এরপর ভারতের হাতে আছে মূল্যবান ৫টি ওভার। পাণ্ডিয়া ফেরার পর থেকে কেন সিঙ্গলস নেওয়ার রাস্তায় চলে গেলেন ধোনি আর কেদার যাদব?

চারঃ হার্দিক ও ঋষভ পান্থ আউট হওয়ার পরে বিনা লড়াইয়ে কেন আত্মসমর্পণ করলেন ধোনি-কেদার?

পাঁচঃ এজবাস্টনের ছোট মাঠে ইংল্যান্ড গুণে গুণে ১৩ ছক্কা হাঁকালো,সেখানে ভারতের ছক্কা মাত্র একটা! সেটাও ইনিংসের শেষ ওভারে!

ছয়ঃ যদি প্রশ্ন করা হয় বিশ্বের সেরা ফিনিশার কে? উত্তর খুঁজতে হয়ত বেশি কিছু ভাববেন না।বলে দিবেন ধোনি।

সাতঃ ভারতীয় ক্রিকেটারদের শরিরী ভাষার দিকে তাকালেও আপনার নিশ্চয় মনে হবে নিঃস্বাদ লক্ষ্যে যেন ব্যাটিং করছে বিরাট বাহিনী।

এমন অনেক প্রশ্ন জমেছে গতকালকের ম্যাচ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে। এমন প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ বুলালে কিছুটা আঁচ করা যায়। অনেকে তো ম্যাচ পাতানোর অভিযোগও তুলছেন। দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররাই ভারতের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বাদ দিন, আসুন ম্যাচের দিকে চোখ ফেরানো যাক।কমেন্ট্রি বক্সে যখন ধোনির ব্যাটিং দেখে অবাক সৌরভরা, তখন গ্যালারিও ফাঁকা হতে শুরু করেছে। যারা সকাল থেকে এজবাস্টনে ভিড় করেছিলেন ভারতকে সমর্থন করার জন্য, তারাই ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে বেরিয়ে গেলেন ধিক্কার দিতে দিতে।

নাসের হুসেন বিস্মিত হয়ে তখন বলে চলেছেন, ‘কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। ধোনি, কী করতে চাইছ তুমি? অন্তত একটা চেষ্টা তো করে দেখতে পারো।’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও অবাক। বলে ফেলছেন, ‘আমার কাছে এই খেলার কোনও ব্যাখ্যা নেই।’

ইংল্যান্ডের পেসারদের দাপটে প্রথম ২০ ওভারে ভারত তুলল ৮৩ রান। ফিরে গেছেন লোকেশ রাহুল। উইকেট ধরে খেললে ম্যাচটা জিততে ভারতই। কারণ রোহিত ও বিরাট তখন দারুণভাবে সেট। কোহলি যখন ফেরেন,২৯ ওভারে ভারত ১৪৬-২।

ঋশভ পান্থকে নিয়ে এগুচ্ছিলেন রেহিত। পরের ৮ ওভারে এলো ৫২ রান। রোহিত ফেরার পরের তিন ওভারে এলো আরো ২৮ রান। পান্ডিয়া-পান্থ জুটিতে আসলো ৩৪ বলে ৪১ রান। শেষ ৫ ওভারে দরকার ৭১! নাটকটা শুরু এখানেই। ধোনি হাত খুললে ৭১ রান কি খুব একটা দূরে থাকতো? আবার প্রশ্নের শুরু!