পাল্টে গেল হাতিরঝিল!

বিবিধ

ছিনতাই, ইভটিজিং, বাইক-কার রেসিং, মাদকসহ নানা ধরনের অপরাধের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিল রাজধানীর হাতিরঝিল। বিশেষ করে বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে রাতের বেলা হাতিরঝিলে চলাফেরা করতে অনেকেই ভয় পেতেন। এখানে বেড়াতে এসে অনেককেই অনেক সময় পড়তে হয়েছে অপ্রীতিকর ও বিব্রতকর অবস্থায়। কিন্তু গত শুক্রবার হাতিরঝিলে পুলিশের এক সাঁড়াশি অভিযানের পর থেকেই যেন পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।ওইদিন বিকাল থেকে রাত ৮টার পর্যন্ত চলা ওই অভিযানে আটক করা হয় শতাধিক কিশোর ও তরুণকে। পুলিশের দাবি, আটককৃতরা বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতিরঝিলে পর্যটকদের কোলাহল আগের মতোই থাকলেও নেই বিশৃঙ্খলা। স্থানীয়রা জানান, পুলিশের অভিযানের পর ইভটিজার, ছিনতাইকারী, কিশোর ও বাইক-কার রেসিং গ্যাং গা ঢাকা দিয়েছে। ফলে পর্যটকরা স্বস্তি নিয়ে হাতিরঝিলে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। এ বিষয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ঘুরতে আসা লোকজনও।

কিশোর গ্যাং কালচার প্রতিরোধে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালায় হাতিরঝিল থানার ৬টি দল। এ সময় হাতিরঝিলের মালিবাগ, মুধবাগসহ আশপাশের এলাকা থেকে আটক করা হয় ১১০ কিশোর ও তরুণকে। রাতে পুলিশ জানিয়েছিল, আটকদের বেশিরভাগই বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা হাতিরঝিল এলাকার বিভিন্ন স্থানে জটলা করে নারীদের যৌন হয়রানি, পথচারীদের কটূক্তি এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করত। এসব কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।হাতিরঝিল থানার ওসি আবদুর রশিদ জানান, শুক্রবার আটক ১১০ কিশোর ও তরুণের মধ্যে ১০৩ জনকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার রাতে ও গতকাল সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৭ জনের বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় ৩ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা করা হয়েছে। বাকি ৪ জনকে পাঠানো হয়েছে কিশোর আদালতে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজ আল ফারুক জানান, বিভিন্ন সময়ে হাতিরঝিলে এসে লোকজন ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানা ধরনের অপরাধের শিকার হন। অধিকাংশের অভিযোগ, ওই এলাকার কিশোরদের ঘিরে। এ ছাড়া ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও মানুষ নানা অভিযোগ করেছেন।সব মিলিয়ে গোয়েন্দা নজরদারির পর শুক্রবার রাত পর্যন্ত পুরো হাতিরঝিল এলাকাজুড়ে অভিযান চালানো হয়। এ ধারা অব্যাহত থাকবে। হাতিরঝিলে আসা দর্শনার্থী-পথচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সজাগ রয়েছে। হাতিরঝিলকেন্দ্রিক অপরাধে কিশোর-যুবক যারাই জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।