আইপিএলে যে দলের হয়ে খেলতে চান সাইফউদ্দিন

খেলা বার্তা

বিশ্বকাপে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে ৩৮ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলে দেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সাইফউদ্দন। সে ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও ক্রিকেটবিশ্বের মন জিতে নেন বাংলাদেশি পেসার অলরাউন্ডার।

সেদিন অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলার পাশাপাশি আরো একটি স্বপ্নপূরণ হয়েছিল তরুণ ক্রিকেটারের সাইফের। সেটি মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে খেলার স্বপ্ন। ফেনী থেকে ফোনে ভারতের জনপ্রিয় আনন্দবাজারকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, ‘ধোনি কেন অধিনায়ক হিসেবে এত সফল, তা জানার চেষ্টা করতাম ছোট থেকেই। বুঝতাম, উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে আঙুল ও হাতের মাধ্যমে বোলারকে কিছু একটা নির্দেশ দেয়। ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাট করার সময় প্রত্যেক বলের আগে এক বার ধোনির দিকে তাকাতাম। লক্ষ্য করতাম হাত দিয়ে ঠিক কী ইশারা করে!’’

কিছু ধরতে পারলেন? তার উত্তর, ‘অবশ্যই। হার্দিক বল করার সময় ধোনিকে দেখছিলাম বারবার বুকে হাত দিচ্ছে। তার পরের বলটিই বাউন্সার করছে হার্দিক। তখনই বুঝলাম, এটা বাউন্সারের নির্দেশ। কখনও দেখছিলাম বুমরাকে পায়ের দিকে আঙুল দেখাচ্ছে। পরের বলেই ইয়র্কার ধেয়ে আসছে। এ ভাবেই একাধিক ইঙ্গিত দিয়ে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে ধোনি।’

সাইফউদ্দিনের বাবা আব্দুল খালেক পুলিশে চাকরি করেন। চাইতেন ছেলে পড়াশোনা করে ভাল চাকরি করুক। কিন্তু ছেলের স্বপ্ন যে কখনওই ১০টা-৫টার একঘেয়ে জীবনে আবদ্ধ থাকতে রাজি ছিল না। শাহিন অ্যাকাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপেনার হিসেবে প্রচুর রান করেছিলেন। সেখান থেকেই উত্থান। তার পরে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে চট্টগ্রামের হয়ে ৫৪৬ রান ও ২৪টি উইকেট নিয়ে জাতীয় ক্রিকেটে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে আর ঘুরে দেখতে হয়নি।

বাবা পুলিশ হলেও কেটস কেনার জন্য তার কাছে হাত পাততেন না। ‘খেপ ক্রিকেট’ খেলে ম্যাচ প্রতি চারশো টাকা করে পেতেন। একশো টাকা হাত খরচের জন্য রেখে তিনশো টাকা করে জমাতেন। তা দিয়েই ক্রিকেটের সরঞ্জাম কিনে আনতেন। সাইফউদ্দিন বলছিলেন, ‘এ ধরনের ক্রিকেট শুধু অর্থ সংগ্রহের রাস্তাই দেখায়নি, সঙ্গে গড়ে তুলেছে লড়াকু মনোভাবও। যাঁদের হয়ে খেলতাম, তারা টাকা দিতেন ঠিকই, কিন্তু পারফর্ম করতে না পারলে কটূ মন্তব্যও শুনতে হত।’

বিশ্বকাপে যে ১৩টি উইকেট পেয়েছেন, তার মধ্যে সেরা কোনটি? ‘‘অবশ্যই ক্রিস গেলের উইকেট। তা ছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচে বিরাট কোহালিকে বোল্ড করে সব চেয়ে খুশি হয়েছিলাম। ওর মতো ব্যাটসম্যানকে আউট করা যে কোনও বোলারের কাছেই স্বপ্ন।’

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে নিয়মিত খেললেও তাঁর স্বপ্ন আইপিএলে খেলা। কোন দলে খেলতে চাইবেন? তাঁর উত্তর, ‘‘সব চেয়ে খুশি হব ধোনির নেতৃত্বে খেলার সুযোগ পেলে। তা না হলে আমার প্রিয় শহর কলকাতার হয়ে খেলতে চাই। শাকিব ভাইয়ের মতোই এপার বাংলার ভালবাসাও কুড়িয়ে নিতে চাই।’’