চীন, রাশিয়ার ভ্যাকসিন নেবে না যুক্তরাষ্ট্র

বিবিধ

চীন এবং রাশিয়ার তৈরি করা ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সংক্রামকব্যাধী প্রধান অ্যান্থথি ফাউসি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে এ ধরনের মহামারি শতকে একবার করে ছড়ায়। সেই মহামারি নিয়ন্ত্রণে একটি ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে সারাবিশ্ব। তখনই মার্কিন শীর্ষ সংক্রামক বিশেষজ্ঞ এমন সন্দেহ উস্কে দিলেন।

৬ মাস আগে করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে জাতিসংঘে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার মানুষ। আক্রান্ত ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি।

পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে নতুন করে লকডাউন জারি করা হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে আর্থিক অতিমন্দা। জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রতি শতকে এমন মহামারি আসে। যার ধাক্কা পরবর্তী কয়েক দশক মোকাবিলা করতে হয়।

করোনা ভ্যাকসিন তৈরির দৌঁড়ে চীনের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সামনের সারিতে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে বাজারে করোনার ভ্যাকসিন উন্মুক্তের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।

কিন্তু মার্কিন শীর্ষ সংক্রামকব্যাধী বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তারা ভিনদেশের তৈরি করা কোনো ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন না। কারণ সেসব দেশে পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া পশ্চিমের চেয়ে অনেক বেশি অস্বচ্ছ।

শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে ফাউসি বলেন, ’ চীন, রাশিয়া ভ্যাকসিন মানব দেহে প্রয়োগের আগে হয়তো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। প্রয়োগের আগে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা জরুরি। তবে তাদের ভ্যাকসিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জায়গাটাতে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে।’

নিজস্ব ভ্যাকসিন তৈরির জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ফার্মা জায়ান্ট সানোফি এবং জিএসকে-কে ২শ’ ১০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো করোনার প্রথম ধাপ সফলতার সঙ্গে মোকবিলা করে নতুন সংক্রমণ ঠেকাতে লড়াই করছে। জাপানের ওকিনাওয়া উপদ্বীপে করেনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শনিবার জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ওই উপদ্বীপে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েকটি ঘাঁটি রয়েছে।

হংকংয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় একটি অস্থায়ী হাসপাতাল খোলা হয়েছে। বাণিজ্যিক নগরীটি গ্রীষ্মের শুরুতেও করোনা গণসংক্রমণরোধে ব্যাপকভাবে সফল হয়। কিন্তু জুলাইতে আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। বাইরে থেকে আসা লোকদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কোয়ারেন্টিন।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল এবং ইতালি তাদের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে সংকোচন করে। ইউরোপে মোট অভ্যন্তরীণ পণ্য হ্রাস পায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ। ওই অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধে নর্দান ইংল্যান্ডের লাখো পরিবারের উপর শুক্রবার নতুন লকডাউন দিয়েছে ব্রিটেন। করোনা সংক্রমণরোধে দেশগুলো সীমিত পরিসরে উদযাপন করা হয় পবিত্র ঈদুল আজহা।

এদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি ও করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রে বেকার মার্কিনদের অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার লক্ষ্যে বিল পাসে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। একদিন আগেই দেশটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি গেলো বছরে একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ কমে যায় বলে জানানো হয়। যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো শুক্রবার বলেন, প্রায় সবাই সম্ভবত নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে। ব্রাজিলিয়ানদের ‘করোনার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানান। ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলেও জানান তিনি। ব্রাজিলে মৃত্যের সংখ্যা যখন ১ লাখ ছুঁই ছুঁই তখনই তিনি এ মন্তব্য করলেন।