পোস্তার আড়তদাররা ব্যস্ত ‘চামড়া সামলাতে’

বিবিধ

ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুর ১২টায় একটি ট্রাক থেকে চামড়া নামাতে ব্যস্ত জনা বিশেক দিনমজুর। সেখানে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি দ্রুত চামড়াগুলো উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বার বার তাগাদা দিচ্ছিলেন। ট্রাকের চামড়া থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।

জানা গেল স্থানীয় এক চামড়ার আড়তদার সিলেট থেকে একহাজার পিস গরুর চামড়া কিনে এনেছিলেন। চামড়া নিয়ে রাত আনুমানিক ২টায় লালবাগে পৌঁছায় ট্রাক। সেখানে তখন ট্রাকের বিশাল লম্বা লাইন। সারাদেশ থেকে কিনে আনা চামড়া ট্রাক ভর্তি করে বিক্রির জন্য আনার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সিরিয়ালি পোস্তায় আনতে আনতে সকাল ১০টা বেজে যায়। ততক্ষণে চামড়ায় পচন ধরে গেছে। লাভ তো দূরের কথা, যে দামে চামড়া কিনে এনেছেন সে দামেও কেউ কিনতে চায় না। শেষে কেনা মূল্যের চেয়ে লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে রাজি হন।

দেরিতে চামড়া পৌঁছানোর কারণে ওই ব্যবসায়ীকে বিরাট অঙ্কের টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, চামড়া ব্যবসার বড় ধর্ম, সময় মতো চামড়া এনে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করা। বিলম্বে চামড়া আনলে দাম পড়ে যায়। যারা সময় মতো চামড়া কিনেছে তারা এবার লাভের মুখ দেখতে পেয়েছেন বলে জানান। পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তায় আজ এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

তবে এ দৃশ্যের বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে। অধিকাংশ আড়তে সঠিক নিয়মে চামড়া কিনে ইতোমধ্যেই লবণ মাখিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে অধিকাংশ আড়তেই চামড়ায় লবণ মাখিয়ে রেখে দেয়া হয়েছে।

ঈদের আগের দিন ও গতকাল ঈদের দিন বিভিন্ন আড়তে বিপুল সংখ্যক দিনমজুরদের ব্যস্ততা দেখা গেলেও আজ আড়তে সে ব্যস্ততা নেই। আড়তমালিকরা জানান, গতকাল দুপুরের পর থেকে আজ ভোর পর্যন্ত চামড়া কেনা, গুণে মিলিয়ে দেখা, সেগুলোতে লবণ মাখিয়ে রাখাসহ বিভিন্ন কাজ করে সকলেই এখন বিশ্রাম নিচ্ছেন। তবে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও বিভিন্ন এলাকায় পশু জবাই হওয়ায় আজও পোস্তায় চামড়া কেনাবেচা চলছে। তবে গতদিনের তুলনায় তা যৎসামান্য বলে জানা গেছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পথে পথে চামড়া কিনে তা ভ্যানগাড়িতে তুলে পোস্তায় নিচ্ছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, আজ গরুর মূল চামড়ার চেয়ে পোস্তার রাস্তায় মাথার চামড়া নিয়ে ব্যস্ত দিনমজুররা। ছুরি হাতে শিং থেকে চামড়া ছাড়িয়ে লবণ মাখিয়ে রাখা হচ্ছে।

জানা গেছে, মাত্র ১০ টাকা প্রতি পিস গরুর মাথার চামড়া লবণ মাখিয়ে রেখে দেয়া হয়। জুতার কাজে ব্যবহৃত হয় গরুর মাথার এ চামড়া।