বাবাকে নয়, আমাকে গ্রেফতার করুন

জেলা বার্তা

‘আমার বাবাকে নয়, আমাকে গ্রেফতার করুন’। রঙিন কাগজের ওপর এমন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে আরো অনেকের সাথে দাড়িয়েছে মোশফিক বাবু (৯) নামের এক তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র। ঘটনাটি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার। শিশুটি সাংবাদিকদের জানায়, পুলিশের ভয়ে তার বাবা বাড়িতে থাকতে পারছেন না। যে কারণে এখন তারা অনাহারে-অর্ধ্যাহারে জীবন পার করছে। তাই সে এমন আকুতি জানিয়েছে।দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আন্দোলনরত শ্রমিকদের নামে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও পুলিশি হয়রানীবন্ধসহ অনতিবিলম্বে নিয়োগের দাবিতে’ মানববন্ধন করে শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। সেখানেই দেখা যায় ওই শিশুটিকে।
রোববার বেলা ১২ টায় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি বাজারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মোশফিক বাবু বলেন, তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা আশেদুলের নামে মামলা হওয়ায়, সে বাড়িতে থাকতে পারছে না, এই কারণে তাদের পরিবার এখন অচল হয়ে পড়েছে। এই জন্য তার বাবাকে গ্রেফতার না করার আবেদন নিয়ে তিনি মানববন্ধনে এসেছে পরিবারের সকলের সাথে। এই শিশুর মতো একই কথা বলেন অনান্য শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরাও।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিক আন্দোলন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, গত ৬ জুলাই শ্রমিক আন্দোলন শুরু হলে গত ৭ জুলাই আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর পুলিশ হামলা ও লাঠিচার্জ করে, তাকে সহ ১৬জন শ্রমিক নেতাদের আটক করে। সেই সময় ৫৪ জন শ্রমিক নেতার নাম উল্লেখ করে ২০০জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই দিন পুলিশের হাতে আটক হওয়া তিনি সহ ১৬জন শ্রমিক গত ১১ জুলাই আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এলেও পুলিশের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছে না। এ কারণে এসব শ্রমিকদের সংসারের চাকা এখন অচল হয়ে পড়েছে। তিনি পুলিশি হয়রানী বন্ধ করাসহ শ্রমিকদের নামে ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করার দাবি জানান। মানববন্ধনে অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক আন্দোলন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আরিফুল ইসলাম, মাজেদুল হক, কবি শাহাজাহান প্রমুখ।

উল্লেখ্য বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটের উন্নয়ন কাজের শ্রমিকরা উৎপাদন কাজে নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলনের কর্মসূচি অনুযায়ী গত ৬ জুলাই সকাল থেকে রাজপথ, রেলপথ অবোরোধ কর্মসূচি সফল করতে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়কে অবস্থান নেয় তারা। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে (৭ জুলাই) পুলিশ শ্রমিকদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করলে, উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় শ্রমিক আন্দোলন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদসহ ১৬জন শ্রমিক নেতাকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত ৫৪জন শ্রমিকের নাম উল্লেখ করে মোট ২০০ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।